কৃষকদের আশার আলো দেখাচ্ছে গ্রোআপ প্রকল্প
বাংলাদেশের
উর্বর ভূমিতে কৃষির গুরুত্ব অপরিসীম। গত কয়েক বছরে, গ্রামীণ কৃষকদের
আর্থিক ও প্রযুক্তিগত সহায়তার অভাবে মধ্যস্থতাকারীদের শিকার হওয়ার
পাশাপাশি তাদের যথাযথ মূল্য না পাওয়ার সমস্যা বিদ্যমান ছিল। এ সমস্যা
কাটিয়ে উঠতে এনজিও ROSA-এর সহযোগিতায় চালু হওয়া GrowUp প্রকল্প এক নতুন
দিগন্ত খুলে দিয়েছে।
GrowUp
কৃষকদের জন্য উন্নত কৃষি সরঞ্জাম, সঠিক সার, বীজ ও কীটনাশকের সরবরাহের
পাশাপাশি আধুনিক কৃষিশিক্ষা ও প্রশিক্ষণের সুযোগ নিশ্চিত করছে। প্রকল্পটি
কৃষকদের সরাসরি বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে যুক্ত করে ফসলের সঠিক বাজার মূল্য
নিশ্চিত করে, যা কৃষকদের মধ্যস্থতাকারীদের শোষণ থেকে রক্ষা করছে।
কৃষক
সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘গ্রোআপের সঙ্গে পরিচয়ের আগে আমি ঋণগ্রস্ত ছিলাম। ঋণের
চাপে পরিবার নিয়ে কষ্টে দিন চলেছে। গ্রোআপের সহযোগিতায় আমি নতুনভাবে চাষ
শুরু করি। বর্তমানে আমি ১০ শতক জমিতে পেঁয়াজ চাষ করছি। ২-৩ বিঘা জমি জুড়ে
আলু চাষ করছি। আমি ও আমার পরিবার এখন আগের চেয়ে অনেক ভালো অবস্থায় আছি।’
গ্রোআপের
এক কর্মকর্তা বলেন, ‘আমাদের ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম কৃষকদের সরাসরি সমর্থন
করে। ফলে তারা মধ্যস্থতাকারীদের শোষণ থেকে মুক্ত হয়ে আত্মনির্ভরশীলতা
অর্জন করছে। কৃষিখাতের অবদান দেশের মোট জিডিপিতে ১৯.১০ শতাংশ থেকে ৩০
শতাংশে পৌঁছানো সম্ভব বলে গ্রোআপ কর্তৃপক্ষ আশাবাদী। বর্তমানে ৭টি জেলায়
১৩টি অঞ্চলজুড়ে প্রায় ৫ হাজার ৪০০ এর বেশি কৃষক এ প্রকল্পের আওতায়
যুক্ত।’
তিনি
বলেন, ‘দেশের ব্যাংকগুলো গত অর্থবছরে কৃষি খাতে ৩২ হাজার ৮২৯ কোটি টাকার
ঋণ দিলেও প্রান্তিক কৃষকরা এর প্রকৃত সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়েছে দালিলিক
প্রমাণপত্র ও উপযুক্ত সহযোগিতার অভাবে। গ্রোআপ এ সমস্যা সমাধানে কাজ করে
যাচ্ছে। যেখানে কৃষকদের জন্য সরাসরি, স্বচ্ছ ও দ্বৈততামুক্ত ঋণ, শস্য,
খাদ্য ও অন্যান্য কৃষি উপকরণ সরবরাহের পাশাপাশি বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে
সেতুবন্ধন রচনা করা হচ্ছে।’
GrowUp-এর
ডিজিটাল ফাইন্যান্সিং পদ্ধতি কৃষি খাতের এ বিপ্লবের মূল চালিকা শক্তি
হিসেবে কাজ করছে। যা শুধু কৃষকদের আর্থিক সাহায্য নয়। একই সঙ্গে
বিনিয়োগকারীদের সামাজিক ও ইসলামিক মূল্যবোধে মানানসই হালাল উপার্জনের
নিশ্চয়তা দিচ্ছে।